Home অর্থনীতি টাকার বিনিময়ে ওয়াসায় চলছে রমরমা চাকরি বাণিজ্য!

টাকার বিনিময়ে ওয়াসায় চলছে রমরমা চাকরি বাণিজ্য!

30
0

রাষ্ট্রায়াত্ব সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা পানি সরবরাহ ও পয়:নিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (ওয়াসা) তে টাকার বিনিময়ে চলছে রমরমা চাকরি বাণিজ্য। এমনকি অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়েও চাকরি মিলছে না। এক্ষেত্রে ওয়াসার উপ প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে একটি কালো এবং অশুভ সিন্ডিকেট চাকরি দেয়ার নাম করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। 
ভোরের পাতার অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১০ লাখ টাকা দিয়েও রাজধানীর তেজগাঁওয়ের এক ব্যক্তিকে চাকরি দেয়নি এ সিন্ডিকেট। শুধু তানভীর আহমেদ নয় ওয়াসায় টাকার বিনিময়ে চাকরি বাণিজ্য সিন্ডিকেটে আরো কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত। তাদের মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার অপারেটর আমিনুল ইসলাম, ওয়াসা ৭ জোনের বিলিং সহকারী আলী আজম। এছাড়া বিলিং সহকারী তরিকুল ইসলাম মামুন, কুরবান আলী, জুয়েল, ওয়ারেস মুন্সি। 
ওয়াসার একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র ভোরের পাতাকে নিশ্চিত করেছে, এই মামুন, কুরবান, জুয়েল এবং ওয়ারেস মুন্সির দায়িত্ব হলো সিন্ডিকেটের মূল হোতা উপ প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা তানভীর আহমেদকে প্রতিমাসে কমপক্ষে ১৬ লাখ টাকা আদায় করে দেয়া। 
এছাড়া ওয়াসার রাজস্ব ১০ জনের সাবেক উপ প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বর্তমানে জোন ৬ এ যোগদান করেন এনামুল হক। তিনিও চাকরি দেয়ার নাম করে আরেকটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তার সংঘবদ্ধ দলের সক্রিয় অন্য সদস্যরা হচ্ছে এরশাদ, মেহেদী হাসান শাওন, নজরুল ইসলাম এবং লুৎফর রহমান। তাদের কাজই হচ্ছে এনামুল হককে মাসে মাসে টাকা সংগ্রহ করে দেয়া। 
ঢাকা ওয়াসাতে সক্রিয় এই দুই সিন্ডিকেট মূলত আউট সোর্সিংয়ের নামে বিভিন্ন কর্মচারী নিয়োগ দেয়ার কথা বলে কোটি কোটি টাকা আদায় করছে। এমন কয়েকটি অভিযোগও ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম এ খানের দপ্তরে জমা দেয়া হয়েছে। কিন্তু ব্যবস্থাপনা পরিচালকের হাতে সেগুলো পৌঁছাচ্ছে না বলেও সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেক ভুক্তভোগী। 
তারা বলেন, এমডির কার্যালয়ের কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তাও এই চাকরি সিন্ডিকেটের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা নেন। 
এসব অভিযোগের বিষয়ে উপ রাজস্ব কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ শতভাগ অসত্য ও বানোয়াট। আপনি যাচাই করে দেখেন। আর যাদের নাম বলা হচ্ছে তারা কেউই আমার জোনে চাকরি করেন না। 
আরেক উপ রাজস্ব কর্মকর্তা এনামুল হককে ফোন করা হলেও তার ব্যবহৃত সরকারি নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে। 

এসব অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাসকিম এ খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মিটিংয়ে আছেন বলে ব্যস্ততার কারণে কথা বলতে রাজি হননি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here