হোম রাজনীতি ‘তৈমুর কাকার’ কথাও শুনব: আইভী

‘তৈমুর কাকার’ কথাও শুনব: আইভী

0

নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকারের সঙ্গে আলোচনা করেও কাজ করার কথা বলেছেন তিনি।

রোববার ভোট শেষে রাত ৯টার পরে বিজয়োল্লাসের মধ্যে দেওভোগের নিজবাড়িতে সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়া জানান নৌকার আইভী।

আগামী দিনের করণীয় তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমাকে সুযোগ দিয়েছে কাজ করব, উন্নয়ন যেটা করছি সেটা করব। যেগুলো বলেছি, সেগুলো করব।

“এছাড়া তৈমুর কাকা যেগুলো বলেছে, সেটাও চিন্তাভাবনা করে তার সঙ্গে কথা বলে সে কাজগুলো করার চেষ্টা করব।”

ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, “আগামী পাঁচ বছর আমি নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্যে অক্লান্ত পরিশ্রম করতে চাই। জীবনের শেষ দিনটি পর্যন্ত তাদের উৎসর্গ করতে চাই। সব ধরনের বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে আমি জনগণের জন্য কাজ করতে চাই।”

এ নিয়ে টানা তৃতীয়বার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র হতে চলেছেন আইভী। প্রথমবার নির্দলীয় নির্বাচন হলেও পরের দুবারই আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে ভোটে জিতলেন তিনি।

টানা তৃতীয় বারের মেয়র হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় আইভী বলেন, “এ নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের ঘাঁটি, বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগের জন্ম এ নারায়ণগঞ্জে। তার ধারবাহিকতা রক্ষা করতে পেরেছি বলে নিজেকে গর্বিত মনে করি।

“শেখ হাসিনার একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে আমি আজীবন এ দল করবো, জয় বাংলা বলবো। কিন্তু সব কিছুর ঊর্ধ্ব হয়ে আমি নারায়ণগঞ্জবাসীর সেবা করবো। দল-মতের উর্ধ্বে উঠে জনকল্যাণে কাজ করব।”

তিনি বলেন, “কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি নেত্রীর প্রতি, যিনি আমাকে এ নৌকা তুলে দিয়েছেন; দলের প্রতি, যারা আস্থায় নিয়ে আমার সঙ্গে কাজ করেছেন। …দল আমার প্রতি আস্থা রেখেছে। নেত্রী আমাকে আস্থায় এনে নৌকা দিয়েছে, নারায়ণগঞ্জবাসী তাকে বিমুখ করেনি।“

স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা তৈমুর আলম খন্দকার ‘ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ অভিযোগ তুলেছেন।

তার জবাবে আইভী বলেন, “এত মিডিয়া, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছিল। ইঞ্জিনিয়ারিংটা কোথায় হল? আমি অভিযোগ করছিলাম, ভোট স্লো হচ্ছিল। যদি স্লো না হত তাহলে এক লাখ ভোটের ডিফারেন্স হত।

“কী ধরনের সূক্ষ্ম কারচুপি হয়েছে, আমি জানি না। দেশবাসী দেখেছে, মিডিয়া দেখেছে, নারায়ণগঞ্জবাসী দেখেছে; এখানে সুন্দর নির্বাচন হয়েছে। ভোট কাস্টিং দ্রুত হলে ভালো হত।”

এক প্রশ্নের জবাবে নৌকার প্রার্থী বলেন, “সব নির্বাচনই ছিল চ্যালেঞ্জিং; একেকটার একেক রকম ধরন ছিল। সবগুলো অতিক্রম করে জয়টা নিয়ে আসাটাই সাফল্য।

“তবে যত কিছু এখানে হয়েছে সবকিছুর মূলেই কিন্তু আমাদের এ জনশক্তি, জনস্রোত, জনসমর্থন। জনসমর্থন যদি না থাকত, তাহলে আমি নারায়ণগঞ্জে দাঁড়িয়ে থাকতে পারতাম না।“

প্রতিশ্রুতি রক্ষার জন্যই যে বারবার জয়ের মুখ দেখেছেন, সে কথাও বলতে ভোলেননি আইভী।

তার ভাষায়, “জনগণকে আস্থায় আনার জন্যে কখনও মিথ্যা বলিনি, অযথা আশ্বাস দিইনি। সবচেয়ে বড় কথা- মানুষকে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবেসেছি, প্রতিবারই রিটার্ন করেছে।”

২০১১ সালে এ সিটি করপোরেশন যাত্রার পর এবার হলো তৃতীয় নির্বাচন। এর আগের দুই নির্বাচনেই মেয়র নির্বাচিত হন সেলিনা হায়াৎ আইভী, যিনি তার আগে আট বছর নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।

সিটি করপোরেশন হওয়ার পর প্রথমবার ভোট হয়েছিল নির্দলীয় প্রতীকে। সেবার কেন্দ্রীয় নেতাদের আশীর্বাদপুষ্ট আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমানকে হারিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটির প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান আলী আহমেদ চুনকার মেয়ে আইভী।

২০১৬ সালের নির্বাচনে ভোট হয় দলীয় প্রতীকে। সেবার আওয়ামী লীগের নৌকা নিয়েই আইভী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিএনপির প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খানকে তিনি হারান পৌনে ১ লাখ ভোটের ব্যবধানে।

মাধ্যমজ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
সূত্রbdnews24.com
পূর্ববর্তী খবরএইচএসসি পরীক্ষার্থীদের হাতে সময় নিয়ে বের হতে অনুরোধ পুলিশের
পরবর্তীউইন্ডোজ, ম্যাকওএস এবং লিনাক্সে নতুন ‘ব্যাকডোর’, সতর্কতা